ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-র আগমনী: উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা ও আপনার করণীয়

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় এবং ভারী বৃষ্টিপাত – এই দুটি শব্দই আমাদের মনে এক মিশ্র আশঙ্কা জাগায়। বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নতুন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আভাস! আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরের বুকে সৃষ্টি হচ্ছে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত, যা শীঘ্রই ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-তে (যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়) পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, উপকূলবর্তী এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আগাম সতর্কতা এবং প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমান পূর্বাভাস কী বলছে?

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে, আজ অর্থাৎ ২৫শে অক্টোবর থেকেই বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে।

প্রধান প্রভাবগুলি হলো:

ভারী বৃষ্টিপাত: প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে (যেমন, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা সহ মোট ৬টি জেলা) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝোড়ো হাওয়া: উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ের কাছাকাছি এলে আরও তীব্র হবে।

সমুদ্রের অবস্থা: সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকবে। মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে আছেন, তাদের দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনাদের জন্য জরুরি প্রস্তুতি ও সতর্কতা:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিই হলো প্রধান হাতিয়ার। নিম্নোক্ত বিষয়গুলি মাথায় রাখুন:

১. বাড়ির প্রস্তুতি: 

নথিপত্র সুরক্ষিত রাখুন: গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র এবং মূল্যবান জিনিসপত্র জলরোধী প্যাকেটে বা উঁচু ও সুরক্ষিত স্থানে রাখুন।

জরুরি কিট তৈরি রাখুন: টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, শুকনো খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র এবং ফার্স্ট এইড কিট অবশ্যই হাতের কাছে রাখুন।

জানলা ও দরজা: ঝোড়ো হাওয়ার সময় জানলা ও দরজা শক্তভাবে বন্ধ রাখুন। প্রয়োজনে কাঠের তক্তা দিয়ে সুরক্ষিত করুন।

২. যোগাযোগ ও তথ্য:

ফোন চার্জ দিন: বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণ চার্জ করে রাখুন।

খবর অনুসরণ করুন: রেডিও, টেলিভিশন বা বিশ্বস্ত অনলাইন মাধ্যমে আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর ও সরকারি নির্দেশাবলী নিয়মিত অনুসরণ করুন।

জরুরী নম্বর: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলের জরুরি নম্বরগুলি হাতের কাছে লিখে রাখুন।

৩. শারীরিক নিরাপত্তা: 

নিরাপদ আশ্রয়: যদি আপনার বাড়ি নিচু এলাকায় থাকে বা পুরনো হয়, তবে সরকারি আশ্রয় শিবির বা উঁচু ও মজবুত কোনো ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।

বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ: ঝড়ের সময় বিদ্যুতের খুঁটি, জীর্ণ দেওয়াল বা বড় গাছের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

জল জমার এলাকা এড়িয়ে চলুন: ভারী বৃষ্টির কারণে জল জমে গেলে সেই এলাকা এড়িয়ে চলুন। খোলা তার বা বিদ্যুতের সংযোগে শর্ট সার্কিট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শেষ কথা

ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-র গতিপথ ও তীব্রতা নিয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা না গেলেও, আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশ মেনে চলুন। আপনার এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার। সকলে সাবধানে থাকুন।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ